চাঁদপুরে ১০ বছর বয়সে কোরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করল নবীন

চাঁদপুরের উসমান ইবনে আফফান (রা.) মডেল মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নবীন; ১ বছর ৯ মাস ১০ দিনে হিফজ সম্পন্ন, মা-বাবা ও শিক্ষকদের অবদানের কথা জানাল মাদরাসা কর্তৃপক্ষ
চাঁদপুর সদর
চাঁদপুরে ১০ বছর বয়সে কোরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করল নবীন
২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

চাঁদপুরে ১০ বছর বয়সে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করেছে ক্ষুদে শিক্ষার্থী মো. আশ্রাফ আহমেদ নবীন। সে চাঁদপুর সদর উপজেলার পুরান বাজারের পশ্চিম শ্রীরামদী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জলিলের ছেলে। নবীন পূর্ব শ্রীরামদী ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ব্রিজের গোড়ার পশ্চিম পাশে অবস্থিত উসমান ইবনে আফফান (রা.) মডেল মাদরাসার হিফজ বিভাগ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মাদরাসার হিফজ বিভাগের প্রধান উস্তাদ হাফেজ মাওলানা মাছুম বিল্লাহর তত্ত্বাবধানে সে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে। ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি তার হিফজ শুরু হয়। এরপর ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর হিফজ সম্পন্ন করে সে। সব মিলিয়ে ১ বছর ৯ মাস ১০ দিনে কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করার কৃতিত্ব অর্জন করে নবীন।

নবীনের হিফজ সম্পন্ন উপলক্ষে মাদরাসার পক্ষ থেকে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করা হয় এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। এ সময় নবীনের মা-বাবার অবদান এবং হিফজের পেছনে শিক্ষকদের নিরলস পরিশ্রমের কথা তুলে ধরা হয়।

মাদরাসার হিফজ বিভাগের প্রধান উস্তাদ হাফেজ মাওলানা মাছুম বিল্লাহ বলেন, পবিত্র কোরআন মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল করা সর্বশেষ আসমানি কিতাব। এটি হেদায়েতের আলো, সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী এবং মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। মহান আল্লাহ তাআলা নিজেই ঘোষণা করেছেন, তিনি কোরআন নাজিল করেছেন এবং তিনিই এর সংরক্ষক।

তিনি বলেন, কোরআনের মূল আরবি পাঠ আল্লাহর হেফাজতে সংরক্ষিত। যুগে যুগে অসংখ্য হাফেজ, কোরআনের শিক্ষক ও আলেম এই সংরক্ষণপ্রক্রিয়ায় অবদান রেখে চলেছেন। তাঁদের প্রচেষ্টা আল্লাহর নির্ধারিত সংরক্ষণব্যবস্থারই অংশ।

হাফেজ মাওলানা মাছুম বিল্লাহ আরও বলেন, ‘মাত্র ১০ বছর বয়সে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অশেষ রহমতে আশ্রাফ আহমেদ নবীনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করা আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। এ অর্জনের পেছনে তার অধ্যবসায়, মা-বাবার সহযোগিতা এবং শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা রয়েছে। আমরা দোয়া করি, মহান আল্লাহ যেন তাকে কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন গড়ার তাওফিক দেন এবং দ্বীন ও মানবতার সেবায় নিয়োজিত রাখেন।’

মাদরাসার পরিচালকদের পক্ষ থেকেও আশ্রাফ আহমেদ নবীনকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়, তিনি যেন নবীনকে কোরআনের একজন হক্কানি হাফেজ হিসেবে কবুল করেন, তার মা-বাবার শ্রম ও ত্যাগের উত্তম প্রতিদান দেন এবং ভবিষ্যতে দ্বীনের একজন দায়ি হিসেবে দেশ ও জাতির খেদমত করার তাওফিক দান করেন।

এ ছাড়া নবীনের হিফজ সম্পন্ন করার পেছনে যেসব শিক্ষক শ্রম দিয়েছেন, মহান আল্লাহ যেন তাঁদের সেই শ্রম কবুল করেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে উত্তম প্রতিদান দেন—এ প্রার্থনাও করা হয়।

মাদরাসার শিক্ষকেরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি আরও এগিয়ে যাবে এবং পবিত্র কোরআনের আলো দেশ থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়বে।