বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় মারুবেনি, সহযোগিতার আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর

অর্থনীতি
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় মারুবেনি, সহযোগিতার আশ্বাস বাণিজ্যমন্ত্রীর

ছবি : পিআইডি

১১ অক্টোবর ২০২৬, ৭:২৭ পিএম

বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন শিল্প খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশন। সার উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, জাহাজ পুনর্ব্যবহার ও গাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

রবিবার (১১ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসাইউকি ওমোতোর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জাপানের বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করা, প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

সার উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি ও জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পের পাশাপাশি জাপানের টয়োটা ব্র্যান্ডের গাড়ি নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ-জাপান সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষর ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি, পাটশিল্পের বহুমুখীকরণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

শিল্প ও প্রযুক্তিতে যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদনমুখী শিল্পের বিকাশে জাপানের প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহার, গাড়ি নির্মাণ, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর খাতে যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। এসব খাতে বিনিয়োগ সহজ করতে সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

পাটশিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রচলিত পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এ শিল্পকে উচ্চমূল্যের বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তুলা, ভিসকস ও পলিয়েস্টারের সঙ্গে পাটের আঁশ মিশিয়ে নতুন পণ্য উৎপাদন, উন্নত বীজ উদ্ভাবন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিনিয়োগ কাজে লাগাতে চায় সরকার।

সার উৎপাদন ও জ্বালানি খাতে আগ্রহ

বৈঠকে মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মাসাইউকি ওমোতো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেন। তিনি কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন, প্রাকৃতিক গ্যাসের কার্যকর ব্যবহার এবং সার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া ডিএপি ও টিএসপি সার উৎপাদনে নতুন বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। সার উৎপাদন খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদ্যমান সক্ষমতা কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সম্প্রসারণের সুযোগ
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মাসাইউকি ওমোতো বলেন, যৌথ বিনিয়োগে পরিচালিত বিজেআইটির (BJIT) শত শত বাংলাদেশি প্রকৌশলী জাপানসহ আন্তর্জাতিক বাজারে সেবা দিচ্ছেন। এ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা বিদেশে সরবরাহের খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

বৈঠকে জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে পরিবেশসম্মত আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ, টয়োটা গাড়ি নির্মাণের প্রস্তাব এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে ক্ষুদ্র মডিউলার পারমাণবিক চুল্লি (এসএমআর) প্রযুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা ও মূলধন প্রত্যাবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহী জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা, সিইপিএর সম্ভাব্য সুফল কাজে লাগানো এবং শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে।