বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে সচিবালয়ে রাত জাগছেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আগের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় এবার নতুন করে সতর্কতা অবলম্বন করছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে সচিবালয়ে রাত কাটাচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করবেন তিনি। প্রয়োজন হলে নিজের দপ্তরেই রাত কাটাবেন প্রতিমন্ত্রী।

শুক্রবার অনুষ্ঠেয় নিয়োগ পরীক্ষা সামনে রেখে বৃহস্পতিবার রাতেও সচিবালয়ে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজ চলছিল। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে অবস্থান করছিলেন।

শুক্রবার বেলা তিনটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ১১তম গ্রেডের ২৪২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। গত ১০ অক্টোবর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পর নতুন করে ১৬ অক্টোবর পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, প্রশ্নপত্র যাতে কোনোভাবেই ফাঁস না হয়, সে জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠানোর আগপর্যন্ত সচিবালয়ে অবস্থান করবেন আমিনুল হক। বিশ্রাম নেওয়ার প্রয়োজন হলে নিজের দপ্তরেই থাকবেন তিনি।

নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা

নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা এড়াতে এবার একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা তদারকির জন্য ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে পুলিশি পাহারায় প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পাঠানো হবে।

রাজধানীর বৃহত্তর মিরপুর এলাকার শতাধিক কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপানোর স্থানও পরিবর্তন করা হয়েছে।

প্রশ্নপত্র প্রণয়নের কাজ তদারক করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং নিয়োগ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা সচিবালয়ে রয়েছেন।

যেভাবে ফাঁস হয়েছিল আগের প্রশ্নপত্র

গত ১০ অক্টোবর বেলা ১১টায় পরীক্ষা শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

ততক্ষণে দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন। পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন।

ঘটনাটি তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিকভাবে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে সময় বাড়ানো হয়।

বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, তদন্ত কমিটিকে রোববার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র তৈরি, ছাপানো ও ফটোকপির কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় সিআইডির ফরেনসিক দলও আলামত সংগ্রহ করেছে।

পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কিংবা বাইরের কেউ—যাঁর বিরুদ্ধেই প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়

এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। বৃহস্পতিবার রাতে এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবেশপত্র, স্ট্যাম্প ও ব্যাংক চেক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর কথা রয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের আগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত চাকরিপ্রার্থীদের ভোগান্তির পর শুক্রবারের পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তদারকি করা হচ্ছে।

সম্পাদক : কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন