বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ শুরু, ১০ হাজার কর্মী যাবেন বিনা খরচে

নিজস্ব প্রতিবেদক

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। দেশটিতে কর্মী পাঠানোর জন্য বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলসহ মোট ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে (জিরো কস্ট) নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে দেশটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় কার্যকর করা এবং স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়েছে সরকার।

তালিকায় ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সি

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং আরও ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। এতে মোট ৩৩৮টি এজেন্সি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেদের উদ্যোগে মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করতে পারবে।

পাশাপাশি চাকরির চাহিদাপত্র (জব অর্ডার বা ডিমান্ড) সংগ্রহ, বাংলাদেশে কর্মী নির্বাচন এবং প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

যেভাবে হবে নিয়োগপ্রক্রিয়া

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তার কাছ থেকে জব অর্ডার সংগ্রহের পর সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করে কর্মী নির্বাচন করবে।

এরপর মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কলিং ভিসা, ই-ভিসাসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বোয়েসেল ও তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি সহায়তা করবে।

প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্র (বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স) নেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। জব অর্ডার সংগ্রহ ও কর্মী নির্বাচনের দায়িত্ব পালনকারী এজেন্সি নিজস্ব রিক্রুটিং লাইসেন্সের অধীনেই কর্মীদের ছাড়পত্রের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

কর্মীদের ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন নিয়োগব্যবস্থায় কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে দেশের আইন মেনে কার্যক্রম পরিচালনা এবং কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াও চলছে। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী মেডিকেল সেন্টার চূড়ান্ত করা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার যৌথ দায়িত্ব।

মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে সরেজমিনে মেডিকেল সেন্টারগুলো পরিদর্শন করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে। এ প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে বলে শ্রমবাজার দ্রুত চালুর স্বার্থে মালয়েশিয়ার অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বিতর্কিত মেডিকেল সেন্টারগুলো বাদ দিয়ে অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দল নতুন নীতিমালার আলোকে মেডিকেল সেন্টারগুলো যাচাই-বাছাই করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ করবে। অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোর তালিকা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে এবং মন্ত্রণালয়ও তা জানাবে।

কর্মীদের জন্য নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে মালয়েশিয়ায় যেতে আগ্রহী কর্মীদের জন্য নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করাতে পারবেন অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোনো একটি নির্দিষ্ট মেডিকেল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। এর মাধ্যমে কর্মীদের জন্য সহজ, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষার মাধ্যমে দুই দেশের শ্রম সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

এসইউ/বি

সম্পাদক : কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন