ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা কার্যক্রম চলছে। গবেষণার মাধ্যমে উৎপাদন কমার কারণ চিহ্নিত করে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে সরকার। এ কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলার কল্যাণপুর ইউনিয়নের দাসাদী নদীর পাড়ে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান উপলক্ষে আয়োজিত ভিজিএফের চাল বিতরণ ও জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শুধু মা ইলিশ ও জাটকা নিধনের কারণেই ইলিশের উৎপাদন কমছে, বিষয়টি এমন নয়। নদীতে চর জেগে ওঠাসহ বিভিন্ন কারণে ইলিশের উৎপাদন কমতে পারে। নদীতে চর জেগে ওঠায় ইলিশের স্বাভাবিক চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উৎপাদন হ্রাসের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করতে বিজ্ঞানীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে উৎপাদন বৃদ্ধির উপায় নির্ধারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ ও জাটকা নিধন রোধে জেলে সম্প্রদায়কে সরকার বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে। ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। এ দেশের নদীর ইলিশ স্বাদ ও গুণে বিশ্বজুড়ে অনন্য। এই সম্পদ রক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
সভায় জানানো হয়, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জেলেদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে শিগগিরই নতুন একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় জেলে সম্প্রদায়ের জন্য নতুন সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, চাঁদপুর অঞ্চলের নৌ পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিম।
চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক সভাটি সঞ্চালনা করেন।

