বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Logo

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মধ্যরাতে ইলিশ ধরতে নামছেন চাঁদপুরের জেলেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাতে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরতে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন চাঁদপুরের প্রায় অর্ধলক্ষ জেলে। নৌকা ও ট্রলার মেরামত, জাল প্রস্তুতসহ মাছ ধরার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গুছিয়ে নিচ্ছেন তাঁরা। তবে নদীতে প্রত্যাশিত ইলিশ না পেলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন জেলেরা।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে নামার প্রস্তুতি নিতে প্রতিটি নৌকার পেছনে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে। নৌকা ও জাল মেরামতসহ অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুত করতে এই অর্থ খরচ হচ্ছে। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি সহায়তা হিসেবে পাওয়া চাল দিয়ে সংসারের ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

অভিযান নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদীতে মাছ ধরার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন জেলে। তাঁদের অভিযোগ, নৌ-পুলিশের কিছু সদস্য অর্থের বিনিময়ে অসাধু জেলেদের নদীতে মাছ ধরার সুযোগ দিয়েছেন। এ কারণে এবারের অভিযান পুরোপুরি সফল হয়নি বলে দাবি তাঁদের।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাঁদপুর নৌ-পুলিশের হরিনা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল আইয়ুব। তাঁর দাবি, মাছ ধরতে ব্যর্থ হয়ে বারবার নদীতে নামার চেষ্টা করা এবং নিয়ম না মানা কিছু ব্যক্তি এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

অভিযান সফল, তবে ছোট ইলিশ নিয়ে উদ্বেগ

২২ দিনের অভিযান সফল হয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা মৎস্য বিভাগ। তবে নদীতে ছোট আকারের ইলিশের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

ইলিশের উৎপাদন ধরে রাখতে নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিকর সাকার ফিশের বিস্তার রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় জেলা টাস্কফোর্সের নেতৃত্বে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পাঁচ শতাধিক জেলেকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি জব্দ করা হয় কয়েক লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও মাছ ধরার নৌকা।

নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় এখন নদীতে ইলিশের সন্ধানে নামার অপেক্ষায় চাঁদপুরের জেলেরা। তাঁদের আশা, নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া গেলে নিষেধাজ্ঞার সময়ের আর্থিক ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

সম্পাদক : কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন