মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
Logo

পদ্মা-মেঘনায় শুরু হলো ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ ধরেই জীবিকা চলে হাজারো জেলে পরিবারের। নদীতে মাছ ধরা তাঁদের পেশা, আবার অনেকের কাছে এটি বংশপরম্পরায় চলে আসা জীবনযাপনের অংশ। তবে চলতি মৌসুমে আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় অনেক জেলেই সংসারের খরচ ও ঋণের কিস্তি নিয়ে চাপে রয়েছেন। এর মধ্যে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে শুরু হয়েছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা।

ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সময়ে ইলিশ পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও বন্ধ থাকবে।

চাঁদপুরে মতলব উত্তর থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকা এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে জেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগ সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করবে।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে জেলেদের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি আর্থিক সহযোগিতার দাবি রয়েছে। তাঁদের মতে, শুধু চাল দিয়ে ২২ দিন পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানো কঠিন।

চলতি মৌসুমে আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় অনেক জেলে এরই মধ্যে ঋণের কিস্তি ও সংসারের খরচ নিয়ে চাপে রয়েছেন। এ কারণে নিষেধাজ্ঞার সময়ে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি নগদ আর্থিক সহযোগিতা এবং এনজিও ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান জানান, ইলিশের অভয়াশ্রম রক্ষায় জেলা টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের স্বস্তি দিতে এনজিওর ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ২৫ কেজি চালের খাদ্য সহায়তার সঙ্গে জেলেদের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।

তিনি জানান, বিগত বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কিছু জেলে নদীর পাশের খাল থেকে নদীতে গিয়ে মাছ শিকার করেন। এবার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যাতে কেউ নদীতে নামতে না পারেন, সে জন্য খালের মুখগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে টাস্কফোর্স কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করবে।

প্রশাসন জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরলে এক থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ২০০৬ সাল থেকে সরকার এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। এ নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ইলিশের প্রজনন রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি জেলেদের পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

সম্পাদক : কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন