চাঁদপুরের সব পূজামণ্ডপ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে এবং পূজামণ্ডপগুলোতে কঠোর নজরদারি রাখা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, সবাইকে নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে হবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অপতথ্য বা গুজব ছড়ালে তা প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে। পূজার সময় স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে আলাদা মেডিকেল টিম রাখা হবে। পূজামণ্ডপের আশপাশে দোকান বা বাজার থাকতে পারবে, তবে কোনো ধরনের মেলা বসতে দেওয়া হবে না। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ব্যাপারেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত সহযোগিতায় দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।
পূজামণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম বলেন, সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে যেকোনো কাজ সুন্দরভাবে করা সম্ভব। দুর্গাপূজা সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিষয়ে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন তিনি।
চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী পূজামণ্ডপগুলোতে রাতের নিরাপত্তা জোরদার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। প্রয়োজনে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
সভায় চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একরামুল ছিদ্দিক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন সরদার, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবার চাঁদপুর জেলার আটটি উপজেলায় মোট ২৩২টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ৪১টি, ফরিদগঞ্জে ২৩টি, হাইমচরে ৬টি, হাজীগঞ্জে ২৯টি, মতলব দক্ষিণে ৩৯টি, মতলব উত্তরে ৩৬টি, কচুয়ায় ৩৯টি এবং শাহরাস্তিতে ১৯টি পূজামণ্ডপ রয়েছে।

